বাইবেল কি নির্ভরযোগ্য? – পর্ব ১: অলৌকিক ঘটনা
By -Michael Bolton
২ পিতর ১:১৯ আর ভাববাণীর বাক্য দৃঢ়তর হইয়া আমাদের নিকটে রহিয়াছে; তোমরা যে সেই বাণীর প্রতি মনোযোগ করিতেছ, তাহা ভালই করিতেছ; তাহা এমন প্রদীপের তুল্য, যাহা যে পর্যন্ত দিনের আরম্ভ না হয় এবং প্রভাতী তারা তোমাদের হৃদয়ে উদিত না হয়, সেই পর্যন্ত অন্ধকারময় স্থানে দীপ্তি দেয়। (KJV)
পূর্ববর্তী নিবন্ধে আমরা ঈশ্বরের বাক্যের সত্যতা প্রমাণের একটি উপায় হিসেবে অলৌকিক ঘটনার বিষয়টি আলোচনা করেছি। আমরা যে ঈশ্বরের সেবা করি—খ্রীষ্টিয় বাইবেলের সেই ঈশ্বর, যিনি একমাত্র সত্য ঈশ্বর—তিনি আমাদের জীবনদায়ী বাক্য দান করেছেন। তিনি আমাদের পাপ থেকে এবং পাপের অনন্ত পরিণতি থেকে মুক্তির সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু তিনি এমন নন যে মানুষের ইচ্ছাকে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ করেন, আবার তিনি কোনো নিষ্ঠূর সত্তাও নন। আজ অনেকেই বলেন, ঈশ্বর আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন কে পরিত্রাণ পাবে আর কে হারিয়ে যাবে। কিন্তু এই ধারণা সত্য নয়। বরং ঈশ্বর তাঁর অপরিসীম অনুগ্রহে তাঁর বিদ্রোহী সৃষ্টিকে পাপ থেকে পরিত্রাণ লাভের সুযোগ দিয়েছেন।
একবার সি. এস. লুইস বলেছিলেন, "ঈশ্বর মানুষের ইচ্ছাকে বলপ্রয়োগ করে পরিবর্তন করেন না। তিনি কাউকে জোর করে তাঁর অনুসারী বানান না; বরং প্রেম, অনুগ্রহ ও সত্যের মাধ্যমে মানুষকে তাঁর দিকে আকর্ষণ করেন।" (The Screwtape Letters, অধ্যায় ৮)
অর্থাৎ, ঈশ্বর কখনোই নিজেকে মানুষের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেন না। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ দেননি, যা মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাকে অস্বীকার করে। তবে তিনি এমন কিছু প্রমাণ ও সাক্ষ্য দিয়েছেন, যা মানুষের হৃদয়কে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট করতে পারে এবং বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় ও শক্তিশালী করতে পারে।
ঈশ্বর তাঁর ঐশ্বরিক, সর্বোচ্চ কর্তৃত্বপূর্ণ এবং অনন্তকাল স্থায়ী বিধান লিখিত বাক্যের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। লিখিত ভাষা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে কোনো বার্তা নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়ার সর্বোত্তম উপায়। এর মাধ্যমে সময় ও স্থানের দূরত্বে অবস্থানকারী মানুষও জানতে পারে ঈশ্বর কী প্রকাশ করেছেন। এরপর তারা চাইলে সেই ইচ্ছার প্রতি বাধ্য হয়ে তার আশীর্বাদ লাভ করতে পারে, অথবা সেই ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে তার পরিণতি ভোগ করার পথ বেছে নিতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, এই লিখিত বাক্যই হলো পুরাতন ও নতুন নিয়ম। আর বর্তমান যুগে আমাদের জন্য ঈশ্বরের নির্দেশনা বিশেষভাবে নতুন নিয়মে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে এই লিখিত বাক্যের সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করব?
প্রাচীনকালে রাজারা যখন দূরবর্তী অঞ্চলে তাঁদের সেনাপতি বা শাসকদের কাছে কোনো আদেশ পাঠাতেন, তখন সেই চিঠি বা চর্মপত্রের ওপর নিজেদের রাজমোহরযুক্ত আংটি বা রাজকীয় সিলমোহর বসিয়ে পাঠাতেন। সেই সিলমোহরই ছিল আদেশটির সত্যতা ও কর্তৃত্বের প্রমাণ। আজ আমাদের হাতে মোমের সিলমোহরযুক্ত কোনো দলিল নেই; কিন্তু আমাদের কাছে রয়েছে এর চেয়েও অধিক নিশ্চিত ও নির্ভরযোগ্য বাক্য।
২ পিতর ১:১৯ আর ভাববাণীর বাক্য দৃঢ়তর হইয়া আমাদের নিকটে রহিয়াছে; তোমরা যে সেই বাণীর প্রতি মনোযোগ করিতেছ, তাহা ভালই করিতেছ; তাহা এমন প্রদীপের তুল্য, যাহা যে পর্যন্ত দিনের আরম্ভ না হয় এবং প্রভাতী তারা তোমাদের হৃদয়ে উদিত না হয়, সেই পর্যন্ত অন্ধকারময় স্থানে দীপ্তি দেয়। (KJV) (KJV)
ঈশ্বরের এই বাক্যের সত্যতা অলৌকিক ঘটনাগুলোর মাধ্যমে নিশ্চিত ও প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা প্রথম নিবন্ধে সংক্ষেপে আলোচনা করেছি। তবে এ বিষয়ে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ও আলোচনা উপস্থাপন করা বাকি রয়েছে।
এবার আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই স্যার ফ্রেডেরিক কেনিয়ন-এর বক্তব্য ও গবেষণার দিকে। তিনি ছিলেন অক্সফোর্ডের একজন খ্যাতনামা পণ্ডিত এবং প্রাচীন ভাষার অধ্যাপক। পরবর্তীকালে তিনি যিরুশালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ স্কুল অব আর্কিওলজির (British School of Archaeology) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
"নতুন নিয়মের গ্রন্থগুলো যে প্রকৃত ও নির্ভরযোগ্য, এবং সেগুলোর মূল বার্তা সংরক্ষিত রয়েছে—এ বিষয়টি এখন নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত বলে বিবেচনা করা যায়।" — স্যার ফ্রেডেরিক কেনিয়ন
উদাহরণস্বরূপ, প্রাচীন গ্রিক নাট্যকার সোফোক্লিস (Sophocles) সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন, তা হলো:
"আমরা নিশ্চিত যে, সোফোক্লিসের বর্তমানে বিদ্যমান সাতটি নাটকের পাঠ্য মূলত সঠিক ও নির্ভরযোগ্য। অথচ এর প্রাচীনতম গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডলিপি তাঁর মৃত্যুর ১,৪০০ বছরেরও বেশি সময় পরে লিখিত হয়েছিল।"
কিন্তু নতুন নিয়মের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এর প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপিগুলো যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যু ও পুনরুত্থানের একশো বছরেরও কম সময় পরে লেখা হয়েছিল। এছাড়া তৃতীয় শতাব্দীর মধ্যেই নতুন নিয়মের প্রায় প্রতিটি পদ বিভিন্ন খ্রীষ্টিয় লেখকের গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে।
তাঁর গবেষণার ভিত্তিতে স্যার ফ্রেডেরিক কেনিয়ন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে:
"একজন খ্রীষ্টিয়ান সম্পূর্ণ আস্থার সঙ্গে বলতে পারেন যে, তাঁর হাতে থাকা বাইবেলই ঈশ্বরের সত্য বাক্য। যুগের পর যুগ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটি সংরক্ষিত হয়েছে, এবং এর মূল বার্তা কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বা ক্ষতি ছাড়াই আমাদের কাছে পৌঁছেছে।" — **স্যার ফ্রেডেরিক কেনিয়ন

